শিশুকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে নজির গড়লো যুবক
দি নিউজ লায়ন ; শুক্রবার রাতে হারিয়ে গিয়েছিল বছর পাঁচ বয়সের এক শিশু।শিশুটি কে উদ্ধার করে তার মায়ের হাতে তুলে দিয়ে নজির গড়ল আকবর মোল্লা নামে অপরিচিত এক যুবক ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানার ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে নিকারীঘাটা অঞ্চলের সাতমূখী বাজার এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ আর্জিনা সেখ তার দুই সন্তান কে নিয়ে স্বামীর সাথে বসবাস করেন।
ঘুটিয়ারী শরীফ এ গাজীবাবার মাজারে দুই শিশু সন্তানের জন্য মানত করেছিলেন গৃহবধূ।সেই মানত শোধ দেওয়ার জন্য এদিন সাতমুখী থেকে ঘুটিয়ারী শরীফে গাজী বাবার মাজারে গিয়েছিলেন তারা।গৃহবধূর সাথে ছিলেন তার দুই শিশু সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।আনন্দে মহাধূমধাম করে গাজীবাবার মাজারে মানত শোধ দেন আর্জিনা সেখ।মানত শোধ করার পরই বাড়িতে ফেরার জন্য ঘুটিয়ারী শরীফ ষ্টেশনে আসেন ট্রেন ধরার জন্য তারা।সকলের অলক্ষ্যে ষ্টেশন থেকে আর্জিনা সেখের বড় ছেলে আরিফুল সেখ(৫)ডাউন ক্যানিং লোকালে উঠে পড়ে।ফলে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে চরম হতায় পড়েন এই গৃহবধু।
আনন্দের রাশ এক নিমিশে উধাও হয়ে যায়।কান্নায় ভেঙে পড়েন গৃহবধূ ষ্টেশন চত্বরে ।এরপর শুরু হয় হারিয়ে যাওয়া ছেলের খোঁজ খবর।কোন রকমে ক্যানিং ষ্টেশনে এসে পৌঁছায় ছোট্ট আরিফুল।সেখান থেকে ক্যানিং বাজারের মধ্যে চলে যায় এই শিশু।পরিবারের কাউকে দেখতে না পেয়ে কাঁদতে থাকে শিশুটি।নিত্য এক রেলযাত্রী যুবক আকবর মোল্লা আরিফুল কে কাঁদতে দেখে তার কাছে এগিয়ে আসে।সে শিশুর কাছ থেকে ঠিকানা জেনে খবর পাঠায় এই শিশুর বাড়িতে।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি এই শিশুর বাড়ির লোকজন ক্যানিং বাজারে চলে আসেন।চলে আসেন গৃহবধূ আর্জিনা সেখ।ছেলেকে দেখতে পেয়ে কোলে তুলে কেঁদে ফেলেন গৃহবধূ।আর্জিনা সেখ বলেন ঘুটিয়ারী শরীফ ষ্টেশনের নীচে দাঁড়িয়ে ছিলাম।আরিফুল কখন সকলের অলক্ষ্যে ষ্টেশনে চলে যায়।তারপর আর খোঁজ পাইনি।সহৃদয় এই যুবক আমার ছেলেকে উদ্ধার করায়,আজ কোলের সন্তান কে ফিরে পেয়েছি না হলে কি যে হত!
তবে হারিয়ে যাওয়া সন্তান কে ফিরে পেয়ে আবারও গাজীবাবার মাজারে মানত দেবেন বলে জানিয়েছেন আর্জিনা সেখ।পাশাপাশি সহৃদয় যুবক আকবর মোল্লার প্রতি কৃতঞ্জতাও জানিয়েছেন।যুবক আকবর মোল্লা বলেন ছোট্ট শিশু সন্তান টি বাজারে একা বসে কান্নাকাটি করছিল। তাকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

Post a Comment